This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Wednesday, December 28, 2016

১৯৯২ সালে খাগড়াছড়িতে ১২০০’র অধিক সংখ্যালঘুকে হত্যা করা হয়

১৯৯২ সালে খাগড়াছড়িতে ১২০০’র অধিক সংখ্যালঘুকে হত্যা করা হয়  Copy right http://eibela.com/
প্রকাশ: ০২:১৯ pm ২৬-০৬-২০১৬ হালনাগাদ: ০২:১৯ pm ২৬-০৬-২০১৬
 

চট্রগ্রাম
:: খাগড়াছড়ির লোগাং গুচ্ছগ্রামে গত ১০ এপ্রিল ’৯২ অন্যায়ভাবে বসতিস্থাপনকারী কিছু বাঙালী, কিছু আনসার ও ভি.ডি.পি. এবং রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর যৌথ অপারেশনে এক ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত হলো পাহাড়ী জনতার উপর। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও সে সময়ে পাহাড়ী জনগণের বাৎসরিক উৎসবে আমন্ত্রিত কিছু বাঙালী বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে ১২০০ বা আরো অধিক পাহাড়ী জনতাকে হত্যা করা হয়েছে।
সমস্ত গ্রামটিকে ঘিরে পাহাড়ী জনতার উপর সেনাবাহিনী করেছে ব্রাশ ফায়ার, হাজার হাজার ঘরবাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে, পাহাড়ী শিশুদের সেই আগুনে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশকারী বাঙালী, যাদের মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে বাঙালী সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনকারী ফ্যাসিস্ট সেনাবাহিনী, তারাও পাহাড়ী জনতার উপর রাম দা, কুড়াল, খন্তা, বর্শা প্রভৃতি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে।
এভাবে সংঘটিত গণহত্যা বাঙালী জাতীয় দৈনিকগুলো কেবল চেপেই গেছে তা-ই নয়, ১১ এপ্রিল প্রচার করেছে, শান্তিবাহিনীর আক্রমণে ১০ জন পাহাড়ী ও ১জন বাঙালী নিহত হয়েছে। এই চরম বেহায়াপনা বুর্জোয়া পত্রিকাগুলোর গণবিরোধিতাই প্রমাণ করেছে। পানছড়ি থেকে ফিরে এসে বামমনা বুদ্ধিজীবী বিপ্লব রহমান ও প্রিসিলা রাজ ‘প্রিয় প্রজন্ম’ পত্রিকায় একজন প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, বৈশিষ্টমুনি ………. গ্রামে ফিরে দেখতে পান ১৮টি লাশ পোড়ানো হচ্ছে। ৫০০ ঘরের মধ্যে অধিকাংশ ঘরেই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ……… স্থানীয় সূর্যতরুণ উদয় ক্লাবে আরো ১৪৭টি লাশ সরকারী হেফাজতে রাখা হয়েছে। ‘বৈশিষ্টমুনি তার স্ত্রীর লাশ ফেরৎ চেয়েও পাননি।’ শত শত লাশ ট্রাকে করে আর্মীরা সরিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপেন চাকমা (১৭)-এর ৯ সদস্যের পরিবারে ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় এলাকায় যাওয়া বাঙালী ডাঃ জামাল উদ্দিনের ভাষ্যমতে, তিনি ৩০০ শত লাশ গুণতে পেরেছিলেন, তারপর তাকে আর গুণতে দেয়া হয়নি।
এভাবে একের পর এক গণহত্যা চলছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। মুজিব-জিয়া-এরশাদ আমলের মতই ‘গণতান্ত্রিক’ খালেদা সরকারও এ ধরনের বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়ে আসছে, যার অনেকগুলোই হয়েছে গোপনে, আমরা জানতেও পারিনি। এই ফ্যাসিবাদী হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে পাহাড়ী জনতা তাদের এবারের বাৎসরিক উৎসব (বৈ-সা-বি) বর্জন করেছে। আঃ লীগ, ৫ দল- এরা কেউই এ বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার নয়, গোলাম আজমের প্রতিবাদী বিচারের আয়োজন করল যারা- তারা এ প্রশ্নে ‘গণআদালত’ ডাকবার কথা বলছে না, বলবে না। কারণ একটাই, এ প্রশ্নে, সরাসরি কাঠগড়ায় উঠতে হয় খুনী লুণ্ঠনকারী দেশের সকল জাতি জনতার প্রধান শত্রু পুরা আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণী, তাদের রাষ্ট্রযন্ত্র ও বাহিনীকে।
তাই এ দেশে যে বুর্জোয়ারা ’৭১-এর চেতনা-মানবতা ইত্যাদির জিগির তোলে এরা সবাই আসলে উপরোক্ত উপাদানেরই দালাল- এরাও পাক-ফ্যাসিস্ট ও গোলাম আযমদের মতই সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদেরই দালাল নব্য রাজাকার, খুনী, নারী ধর্ষণকারী। তাই বাঙালী শ্রমিক-কৃষক-জনতার কর্তব্য তাদেরও শত্রু বাঙালী আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণী ও তাদের সরকারের পাহাড়ী জনতার উপর জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সামিল হওয়া। এই বীভৎস হত্যাকাণ্ড সংঘটনকারী খালেদা সরকার, সেনাবাহিনীসহ পুরা রাষ্ট্রযন্ত্র খুনী, লুণ্ঠনকারী ও সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল।

Wednesday, December 14, 2016

Chakmas

The Chakmas
They are the largest ethnic group of Bangladesh. They also call themselves Changmas. They are concentrated in the central and northern parts of the Chittagong Hill Tracts where they live amidst several other ethnic groups. Exact population figures are lacking but the most reliable estimates put their number at 140,000 in 1956 and 230,000 in 1981. According to the 1991 population census, there were about 253,000 Chakmas. More than 90 percent of them are concentrated in Rangamati and Khagrachhari districts. About 100,000 Chakmas also live in India, particularly in the states of Arunachal, Mizoram and Tripura. Small groups have settled in other countries as well.
The first written reference to Chakmas of the Chittagong Hill Tracts dates from about 1550 AD when the Portuguese map maker Lavanha indicated on the earliest surviving map of Bengal that Chakmas lived in a settlement on the Karnafuli river. Two main theories have been put forward about the earlier history of Chakmas. Both assume that they migrated to their present homeland. The most convincing theory links Chakmas with central Myanmar and Arakan, and with groups such as the Sak (Chak, Thek) who live in the Chittagong hills and Arakan. The other theory, for which historical evidence is lacking, assumes that Chakmas migrated to the Chittagong hills from Champaknagar in northern India. In the late eighteenth century, Chakmas were found not only in the Chittagong Hill Tracts but also in other hilly areas of the present-day districts of Chittagong and Cox's Bazar.
It was only after the annexation of the Chittagong Hill Tracts by the British (1860) and the promulgation of rules, which forbade hill agriculture (Jhum, shifting cultivation) in Chittagong district that these Chakma cultivators (and other hill cultivators such as the Marma) moved east to the Chittagong Hill Tracts. In the precolonial period, the Chittagong Hill Tracts had not been part of any state, although they had long been influenced by the waxing and waning of power centres in Tripura (to the north), Arakan (to the south) and Bengal (to the west). In the seventeenth and eighteenth centuries, the Mughal empire collected tribute (cotton) from the area through local intermediaries. One of the most prominent of these intermediaries was the Chakma chief residing in an elevated landmass in the Karnafuli river channel. His family had considerable landholdings in the plains of Chittagong, ie, inside Mughal territory, and resided in Rangunia.
When the British took control of the plains in the mid-eighteenth century, they continued the arrangement, and when they annexed the Chittagong hills a century later, they made the Chakma chief responsible for tax collection in the central region of the new possession. Two other chiefs were made responsible for the southern part (the Bohmong chief) and the northern part (the Mong chief). The Chakma chief, now a colonial grandee endowed with the personal title of raja and some of the trappings of indirect rule, moved to Rangamati, the capital of the new district which the British named Chittagong Hill Tracts. The colonial tax system also gave new powers to old functionaries at the local level (talukdar, dewan, khisa) which came to form the Chakma gentry. The Chittagong Hill Tracts Regulation of 1900 formalised this system and also stressed the fact that the area, though administered from Calcutta, was not a regular part of Bengal. Its administrative system, land rights, and closure to outside settlers all set it apart from the rest of Bengal. This status was reconfirmed in the 1930s, when the region was declared an excluded area under the Government of India Act. After decolonisation (1947), the Chittagong Hill Tracts were incorporated into East Pakistan and later (1971) Bangladesh. The special administrative status of the Chittagong Hill Tracts was continued, and the Regulation of 1900 was never clearly rescinded, despite piecemeal mutations. For this reason, the office of the Chakma (and Bohmong and Mong) chief survives till today.
In 1906, a hydroelectric project was proposed to be built, using the flow of the water in the Karnafuli river. But it was not until the 1950s that the plan took shape and a large hydroelectric project was commissioned at Kaptai, a riverside village close to Rangamati. When the Kaptai dam was completed in 1960, a big lake formed in the Karnafuli valley, flooding many villages and leading to the great exodus (or Bara Parang, as the Chakmas call it). About 100,000 people are thought to have fled the waters, most of them Chakmas. Many settled elsewhere in the district, including reserved forest areas, but in 1964, tens of thousands sought refuge in India.
Chakmas felt that their grievances were not taken seriously by the authorities, first in Pakistan and then in Bangladesh. This led to an armed conflict between the PCJSS (Parbatya Chattagram Jana Sanghati Samiti, or United People's Party of the Chittagong Hill Tracts) founded in 1972, and the Bangladesh armed forces. The PCJSS, led mainly by Chakmas, signed a peace agreement with the Bangladesh government in 1997.
Traditionally, the Chakma lifestyle was closely linked with hill agriculture or shifting cultivation (jum in Chakma and jhum in Bengali). Living in settled villages, they would cultivate plots on surrounding hills for some years, then leave them fallow to recuperate naturally. Chakmas also cultivated land in river valleys. They had a well-developed system of land rights, which differed sharply from those in the plains.
According to early observers, the living standard of cultivators in the Chittagong hills was relatively high. Rice, cotton and vegetables were important crops. The Bamboo was essential as building material. The bamboo had so many other uses that the Chakma lifestyle has been described as a 'bamboo civilisation'. In the colonial period, social differentiation grew as an elite developed, basing its lifestyle on a share of the government tax and on educational achievements. In the twentieth century, population growth made hill cultivation more problematic mainly because fallow periods had to be shortened - and more Chakmas had to find non-agricultural jobs.
Their problem was intensified by the government policy of transmigration. From the late 1970s, hundreds of thousands of poor Bengali lowland cultivators were brought to the Chittagong hills under military protection. Land scarcity increased sharply, and Chakmas (and other hill people) saw their lifestyle threatened further. Many were forced into low-income wage labour (e.g. on new rubber plantations); over 50,000 fled their country and lived on doles in Refugee camps in Tripura (India) from 1986 till their repatriation in 1998.
Chakmas distinguish themselves from surrounding groups by their language. Although there are indications that Chakmas used to speak a Tibeto-Burman language, their present language is Indo-European. It is closely related in structure to Chittagonian Bengali from which it differs by a distinct vocabulary. Most Chakmas are bilingual and speak Chakma and Bengali; many know other regional languages as well. The Chakma language has its own script, although today this is not commonly used and Chakma is now usually written in Bengali letters. Chakma literature runs from the oral traditions of the gengkhuli singers through literary periodicals (the first of which was Goirika started in 1936) to modern poetry. Another modern art form in which Chakmas made their mark is painting.
The vast majority of Chakmas are Buddhists, and they form the largest Buddhist population in Bangladesh. Integrated in their Buddhist practice are older religious elements, such as worship of the powers of nature. One of their annual highlights is the Bizu festival held in Chaitra, the last month of the Bengali year. Culturally, the Chakmas are in many ways more Southeast Asian than South Asian. They know neither the dietary restrictions nor the strict gender segregation of their Bengali neighbours. 

শান্তি বাহিনী

পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র বানানোর জন্যই পাহাড়ীরা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করছে

মো: শামীম উদ্দিন :
 পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক দশমাংশ । ৫০৯৩ বর্গমাইল আয়তনের পার্বত্য চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ও বান্দরবান এই তিনটি জেলা নিয়ে গঠিত । ৫২ ভাগ বাঙ্গালী ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১৩টি উপজাতির সমন্বয়ে ৪৮ ভাগ উপজাতি জনসংখ্যা অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম অপার সম্ভবনার এক ভূমি। দীর্ঘ দিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশী বিদেশী ষড়যণ্ত্র চলছে,যার মাত্রা বর্তমানে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে । বর্তমানে উপজাতিরা জাতিসংঘ থেকে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার জন্য নিজেদেরকে আদিবাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জোর প্রচেষ্টা  চালাচ্ছে । উপজাতিরা ভাল করেই জানে তারা আদিবাসী নয় তারা উপজাতি,শান্তিচুক্তিতে ও তারা নিজেদেরকে উপজাতি হিসেবে পরিচয দিয়েছে, কিন্তু আজ তারা দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নতুন করে নিজেদেরকে আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যেমনটি হচ্ছে শিয়ালের গায়ে বাঘের চামড়া লাগিয়ে মিথ্যা বাঘ হওয়ার চেষ্টা । আমরা বাঙ্গালী আমাদের জন্মলগ্ন থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের পরিচয় একটি, আমরা বাঙ্গালী। সুবিধা আদায়ের জন্য আমরা আমাদের এই পরিচয়কে যেমন যখন তখন পরিবর্তন করার চেষ্টা করাটা নিন্দনীয়,  অসাংবিধানিক ও অপরাধযোগ্য, ঠিক উপজাতিদের আদিবাসী করার চেষ্টাও  নিন্দনীয়, অসাংবিধানিক ও অপরাধযোগ্য, শান্তিচুক্তির ধারা ভঙ্গকারী হিসেবে তা রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল ।
উপজাতি ও আদিবাসী শব্দের মধ্যকার বিতর্কের কারণ জানতে হলে আগে উপজাতি ও আদিবাসী সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দরকার । উপজাতি শব্দটির আভিধানিক অর্থ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমষ্টি । আর আদিবাসী শব্দের অর্থ হল আদি থেকে যে জাতি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করে আসছে অথবা ভূমি সন্তান, ইংরেজিতে যাকে বলে Aborigine or aboriginal people । ড.জিল্লুর রহমান সম্পাদিত এবং বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ইংরেজী বাংলা অভিধানে aboriginal বলতে ওই মানুষ ও প্রাণীকে বুঝিয়েছেন,যারা আদিকাল থেকে একই স্থানে বসবাস করছেন ও পরিচিতি পেয়েছেন । অন্য দিকে Oxford advanced Learner’s Dictionary তে Aboriginal মানে A member of race of people who are the original people living in a country, especially in Australia/Canada (Sixty Edition :Edited by Salley Wehmeir: Oxford university press :2001-2003). Webster new world dictionary- তেও একই বিষয়ে আরো স্পষ্ট করে বলা হয়েছে- The first people known to have lived in a certain place or region which was not under anybody’s control/possession are to be termed as aborigines of adivashis.
উপজাতিয় নেতৃবৃন্দ, কিছু বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, উপজাতিদের কিছু দালাল, বিদেশী মদতপুষ্ট কিছু বাঙ্গালী রূপী শয়তানসহ অনেক উপজাতি দাবি করছে তিন পার্বত্য জেলার উপজাতিরা হচ্ছে আদিবাসী ।কিভাবে তারা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করছে? সে প্রশ্ন পার্বত্যবাসীর, সুশীল সমাজের, দেশপ্রেমিকদের, ছাত্র সমাজের, সকল স্তরের জনগন সহ সরকারের । কারণ উপজাতিরা এই এলাকায় পার্শ্ববর্তী দেশ বার্মা, চীন, ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা থেকে সেই দেশের সরকার কর্তৃক তাড়িত হয়ে আমাদের বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে ঠাই নিয়েছে। উড়ে এসে জুড়ে বসে তারা দাবি করছে আমরা এই এলাকার আদিবাসী আর বাকীরা সবাই বহিরাগত, অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় পার্বত্য এলাকার আসল আদিবাসী বাঙ্গালীরা। অন্যদিকে তিন পার্বত্য জেলার ইতিহাস ও সমগ্র বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তিন জেলার ১৩টি উপজাতি চাকমা, মগ, মুরং, কুকি, খুমি, বনজোগী, পাংখো, লুসাই, তংচঙ্গা, বোমাং, রাখাইন, খিয়াং, ত্রিপুরা মূলত ১৬০০-১৯০০সালের মধ্যে বিভিন্ন জায়গা/দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে অত্র অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
চাকমারা কোথা থেকে এসেছে তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উৎস থেকে আমরা পাই। লেখক কর্ণেল ফেইরি ‍‍‍“The History of Barma” নামক  গ্রন্থের ৩৯ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন চাকমারা এক সময় ব্রম্ম দেশে ছিল। ব্রম্ম দেশটি বর্তমানে মায়ানমার নামে পরিচিত। এছাড়া ১৭৮৭ সালের ২৪ জুন ব্রম্ম রাজ কর্তৃক চট্টগ্রামের শাসনকর্তাকে লিখিত এক চিঠি থেকে একটি সঠিক ইতিহাস বের হয়ে আসে। তা হল – চাকমারা ব্রম্ম দেশে শান্তি ভঙ্গ করে, রাজশক্তি অবমাননা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পালিয়ে আসে এবং সেখানে বসবাস শুরু করে এবং তারা ডাকাতি বৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। আর এই জন্য ব্রম্ম রাজা তৎকালীন চট্টগ্রামের শাসনকর্তাকে লিখিত চিঠির মাধ্যমে তার দেশের বিতাড়িত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর জন্য আবেদন করেন । এই ঐতিহাসিক চিঠির মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, চাকমারা এই অঞ্চলে আদিবাসী নয় বহিরাগত। তাছাড়া ইতিহাস থেকে আরো জানা যায় যে, চাকমারা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভুত যারা মূলত: দক্ষিণ চীনের ইউনান প্রদেশের আদি অধিবাসী। তাদের উগ্রবাদী আচারণ, স্বেচ্চাচারীতায় অতিষ্ঠ হয়ে তৎকালীন চীন সরকার তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করে দেয়। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে চাকমারা থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু থাইল্যান্ডের রাজাও তাদেরকে বিতাড়িত করলে তারা মায়ানমারে আশ্রয় নেয়। ১৭৮৪ সালে বার্মা যুদ্ধে মগদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে ইংরেজদের পরোক্ষ সহযোগিতা নিয়ে চাকমারা পার্বত্য চট্টগামে বসবাস শুরু করে। কুকী গোত্রের উপজাতিরা যেমন:বোমাং, লুসাই, পাংখো, বনজোগী, মুরং, খুমিরা মায়ানমার, চীনের বিভিন্ন প্রদেশ, ও উত্তর ভারত হতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করে। এরপরে বসতি স্থাপন করে ত্রিপুরা গোষ্ঠীর বিভিন্ন উপজাতি যেমন: রাখাইন, খিয়াং. ত্রিপুরা, তংচঙ্গারা।
উপরের আলোচনা এটি সুস্পষ্ট ভাবে প্রতিয়মান হয় যে, বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিদের বসবাস, আদিবাসীদের নয়, শুধুমাত্র জাতিসংঘ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র বানানোর জন্য তারা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করছে । কাকের গায়ে ময়ূরের পেখম লাগালে যেমন কাককে ময়ূর বলা যাবে না তদ্রুপ উপজাতিরা যাই কিছু করুক, বলুক না কেন তাদেরকে আদিবাসী বলা যায় না, যাবে না। সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে যে সব ব্যক্তি, পত্র পত্রিকা, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া উপজাতিদের আদিবাসী করার অপপ্রচেষ্ঠা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করে তাদের অচিরেই বিচার করা দরকার।
আজ পার্বত্য চট্টাগ্রাম আলাদা একটি রাষ্ট্র বানানোর জন্য ভারত অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে উপজাতিদের সহযোগিতা করছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে একশটির (১০০টির) বেশি খ্রিস্টান মিশনারি চাকমাসহ সকল উপজতিদের খ্রিস্টান বানানোর কাজে ব্যস্ত। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন- সি.এইচ.টি কমিশন, ইউ.এন.ডি.পি ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে চাকমাদেরকে আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করে মধ্যপ্রাচ্যের ঈসরাইল রাষ্ট্রের মত পার্বত্য চট্টাগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করছে, যা পার্বত্য চট্টাগ্রামে কর্মরত এনজিও সংস্থাগুলোর প্রতিদিনের কর্মকান্ড থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয়।
 পার্বত্য চট্টগাম নিয়ে যে ধুম্রুজালের সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্য কিছু পরামর্শ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১) উপজাতিদের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত শিক্ষা-দীক্ষায় অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে বাঙ্গালীদের সকল ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
২)অতিদ্রুত চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্ত্র মুক্ত করা। সন্তু বাহিনীর কাছে কেন অস্ত্র আছে? সেই অপরাধে, শান্তিচুক্তির শর্ত ভঙ্গকারী হিসেবে তার উপর রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিয়োগ এনে অতিদ্রুত এর বিচার করা।
৩)শিক্ষা, চাকুরী সকল ক্ষেত্রে উপজাতি কৌটা বাতিল করে বৈষম্যহীন পার্বত্য কোটা চালু করা।
৪)পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত এনজিওগুলোর কর্মকান্ডকে একটি সরকারী ফ্রেমে নিয়ে আসা।
৫)পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশীদের আনাগোনার প্রতি গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা।
৬)পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সীমান্ত এলাকাগুলো সুরক্ষার জন্য কাটা তারের বেড়া নির্মাণ করা, সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা।
৭)বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধি করা।
৮)যে সকল উপজাতি প্রশাসনের উচ্চ পদে থেকে নিচু স্তরের উপজাতিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কিয়ে দিচ্ছে এবং প্রশাসনে বসে তাদেরকে আশ্র্রয় দিচ্ছে তাদেরকে সনাক্ত করে অতিদ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
 সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সকল পজেটিভ পদক্ষেপ অতিদ্রুত নিতে হবে, না হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের অখন্ডতা বজায় রাখা দুষ্কর হয়ে দাড়াবে।
তথ্যসূত্র:
১)প্রসঙ্গ পার্বত্য চট্টগ্রাম,-সিদ্ধার্থ চাকমা, কলকাতা নাথ ব্রাদার্স।
২)চাকমা, সুগত ১৯৮৩ “চাকমা পরিচিতি” রাঙ্গামাটি বরগাও পাবলিকেশন      
৩)Cap , Lewiun T.H.(ND) – The Hill Tracts of Chittagong and the Pewellers there in.
৪)The History of Barma- Colonel Feiry.
৫)সাম্প্রতিক পত্র পত্রিকা।
♦ মাটিরাঙ্গা থেকে

Tuesday, September 13, 2016

আব্রাহাম লিঙ্কন এর বিখ্যাত সেই চিঠি

***{আব্রাহাম লিঙ্কন
এর বিখ্যাত সেই চিঠি}
মাননীয় মহাশয়,
আমার পুত্রকে জ্ঞানার্জনের জন্য
আপনার কাছে প্রেরণ করলাম. তাকে
আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন -
এটাই আপনার কাছে আমার বিশেষ
দাবি.
আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন - সব
মানুষই ন্যায়পরায়ণ নয়, সব মানুষই সত্যনিষ্ঠ
নয়. তাকে এও শেখাবেন, প্রত্যেক
বদমায়েশের মাঝেও একজন বীর
থাকতে পারে, প্রত্যেক স্বার্থপর
রাজনীতিকের মাঝেও একজন
নি:স্বার্থ নেতা থাকে. তাকে
শেখাবেন, পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে
পাওয়ার চেয়ে একটি উপার্জিত ডলার
অধিক মূল্যবান. এও তাকে শেখাবেন,
কিভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয়
এবং কিভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ
করতে হয়. হিংসা থেকে দুরে থাকার
শিক্ষাও তাকে দেবেন. যদি পারেন
নিরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে
শেখাবেন. সে যেন আগেভাগেই এ
কথা বুঝতে শেখে - যারা পীড়নকারী
তাদেরকেই সহজে কাবু করা যায়.
বইয়ের মাঝে কি রহস্য লুকিয়ে আছে,
তাও তাকে বুঝতে শেখাবেন.
আমার পুত্রকে শেখাবেন, বিদ্যালয়ে
নকল করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক
বেশি সম্মানজনক. নিজের ওপর তার
যেন সুমহান আস্থা থাকে. এমনকি সবাই
যদি সেটাকে ভুলও মনে করে.
তাকে শেখাবেন, ভদ্রলোকের প্রতি
ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর
হতে. আমার পুত্র যেন এ শক্তি পায় -
হুজুগে মাতাল জনতার পদাঙ্ক অনুসরণ না
করার. সে যেন সবার কথা শোনে এবং
তা সত্যের পর্দায় ছেকে যেন
ভালোটাই শুধু গ্রহণ করে - এ শিক্ষাও
তাকে দেবেন.
সে যেন শিখে দু:খের মাঝে
কিভাবে হাসতে হয়. আবার কান্নার
মাঝে লজ্জা নেই এ কথা তাকে বুঝতে
শেখাবেন. যারা নির্দয়, নির্মম
তাদেরকে সে যেন ঘৃনা করতে শেখে
আর অতিরিক্ত আরাম-আয়েশে থেকে
সাবধান থাকে.
আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন
কিন্তু সোহাগ করবেন না, কেননা
আগুনে পুরেই ইস্পাত খাটি হয়. আমার
সন্তানের যেন অধৈর্য হওয়ার সাহস না
থাকে, থাকে যেন সাহসী হওয়ার
ধৈর্য. তাকে এ শিক্ষাও দেবেন -
নিজের প্রতি তার যেন সুমহান আস্থা
থাকে আর তখনই তার সুমহান আস্থা
থাকবে মানব জাতির প্রতি.
ইতি-
আপনার বিশ্বস্ত
আব্রাহাম লিঙ্কন

Monday, September 12, 2016

বিশ্বের কোন দেশে শতকরাকত % বৌদ্ধ ধর্মালম্বী:-


Ven Dripti Vante
বিশ্বের কোন দেশে শতকরাকত % বৌদ্ধ ধর্মালম্বী:-
১)কম্বোডিয়া-97%
২)জাপান-96%
৩)থাইল্যান্ড-95%
৪)থাইওয়ান-93%
৫)মঙ্গোলিয়া-93%
৬)মায়ানমার-90%
৭)হংকং-90%
৮)ভূটান-84%
৯)চীন-80%
১০)ভিয়েতনাম-75%
১১)ম্যাকাও-75%**
১২)ক্রিসমাস ISLAND-75%
১৩)শ্রীলঙ্গা-70%
১৪)লাওস-67%
১৫)সিঙ্গাপুর-51%
১৬)দক্ষিন কোরিয়া-50%
১৭)লাদাগ-45%
১৮)সিকিম-28%
১৯)মালেশিয়া-21%
২০)ব্রুনেই-17%
২১)উত্তর কোরিয়া-14%
২২)নেপাল-11.5%
২৩)ভারত-3%
২৪)ইউএসএ-2%
২৫)জার্মানি-1%
২৬)কানাডা-03.5%
২৭)ইন্দোনেশিয়া-01.7%
২৮)ফিলিপাইন-01.5%
২৯)ফ্রান্স-01.5%
৩০)রাশিয়া-01.4%
৩১)বাংলাদেশ-0.7%
৩২)ব্রাজিল-0.5%
তথ্যসূত্র:
সবাইকে শেয়ার করে জানার সুযোগ করে দিন।এটি আমার এক ফ্রেন্ড এর প্রোফাইল থেকে সংগ্রীহিত।

Sunday, September 4, 2016

অধ্যক্ষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো : মোনঘর থেকে বনফুল


সুত্রঃ http://hotnews24bd.com/2015/03/24/62908/
রাজু আহমেদ : আদিবাসীদের ঘরে আলোর বার্তা ফেরি করা একজন নিভৃতচারী মানুষ অধ্যক্ষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। শৈশবের রূঢ় বাস্তবতায় হেরে না গিয়ে কৈশোরকে গড়েছেন স্বপ্নচারী এক নিরেট বাস্তবতার নিরিখে। জীবনের রণক্ষেত্রে বিজয়ী ভেন. নিজেকে গড়েছেন যোগ্য থেকে যোগ্যতর হিসেবে। তিনি ভিক্ষু তবে মানুষের মননশীলতাকে মেখে নিয়েছেন সর্বাঙ্গে। সেই চিরসত্য কথার মতোই- সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।
আদিবাসীদের মাঝে মুক্তির গান গেয়ে জ্ঞানের আলো বিলানো মানুষ অধ্যক্ষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর জন্ম ১৯৫২ সালে খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার বাবুছড়া গ্রামে। তার গৃহী নাম বলেন্দ্র দেব চাকমা। পিতা প্রয়াত নরেন্দ্র লাল চাকমা এব মা প্রয়াত ইন্দ্রপতি চাকমা।
মহাথেরো ১৯৬৮ সালে দিঘীনালা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, ১৯৭২ সালে হাটাজারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৭৭ সালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে বিএ অনার্সসহ এমএ ডিগ্রি এবং ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। অধ্যক্ষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক পাসের পরপরই ভিক্ষুত্ব গ্রহণ করে মানবসেবায় মনোনিবেশ করেন। তরুন বয়স থেকেই একজন সাধারণ ভিক্ষু হয়েও  ভেন. মনে প্রাণে অনুভব করেছেন পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য উন্নয়নের একমাত্র পথ হচ্ছে শিক্ষা।  সেই থেকে ভেন. শুরু করেন এক অবিশ্রান্ত লড়াই। এই লড়াইয়ের মাঠ প্রান্তরে ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো নানা বাধা বিপত্তির মুখোমুখি হলেও হেরে যাননি। মানুষের কল্যাণ আর নিজের আত্মবিশ্বাসকে হাতিয়ার করে চালিয়ে আসছেন শিক্ষা বিস্তারের নিরন্তর এক সংগ্রাম।
১৯৭৪ সালের কথা। ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো তখন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। টগবগে এক যুবকের চোখে মুখে জীবন জয়ের অনাবিল আশা। এসময় তার দীক্ষাগুরু জ্ঞানশ্রী মহাথেরো প্রতিষ্ঠিত খাগড়াছড়ি জেলার পার্বত্য চট্রল বৌদ্ধ অনাথ আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।  অনেকটা বাধ্য হয়ে অনাথ আশ্রমটির দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তিনি সেখানে একটা আদর্শিক ভিত্তির সূচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এখানেই ভেন.প্রতিষ্ঠা করেন ধর্মোদয় পালি কলেজ এবং অনাথ আশ্রম আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়। যা আজও সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো পাহাড়ী শিশুদের কোমল অন্তরে শিক্ষার আলো জ্বালাতে শ্রদ্ধাময়ী পাহাড়ের গায়ে গড়ে তোলেন ‘মোনঘর’ নামের অতি মানবিক এক শিশু শিক্ষা সদন। এই মোনঘরই আজ বিশ্বখ্যাত। শিশু শিক্ষায় মানুষের চিন্তার রেণু বহন করে।
মোনঘরেই ভেন. থেমে থাকেননি। এই মোনঘর শিশু সদনকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলেন মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়, মোনঘর পালি কলেজ, মোনঘর প্রিÑক্যাডেট স্কুল, মোনঘর ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র সহ ১৪টি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ঐ দূর পাহাড়ের সীমানা ছাড়িয়ে অধ্যক্ষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো শিক্ষার আলো ছিটিয়ে দিতে চান দেশের প্রতিটি প্রান্তে। এ প্রয়াস থেকে ২০০৪ সালে রাজধানী ঢাকার মিরপুরে প্রতিষ্ঠা করেন বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ। একজন শিক্ষক, শিক্ষার মানুষ ভেন. আলোকিত মানুষ গড়ার চেতনাকে অবিরাম করতে গড়ে তোলেন বনফুল আদিবাসী এডুকেশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট।
ব্যক্তি জীবনে একজন সৃজনশীল বৌদ্ধ ভিক্ষু ভেন. কর্মক্ষেত্রে সর্বাধিক এবং সার্বজনীন মতের বিশ্বাসী। যা তাকে একজন সফল সংগঠকে পরিণত করেছে। অধ্যক্ষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি মননশীল কর্ম পরিধির মাধ্যমে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘকে বিশ্ববৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নজরে আনতে সক্ষম হন। অধ্যক্ষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর সাংগঠনিক জীবনে এক অনন্য মাইলফলকের নাম পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ। তিনি প্রথম মেয়াদে ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত  এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়কালে মানবিকতার দিক থেকে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ আদিবাসী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মাঙ্গলিক আশার প্রতীকে পরিণত হয় এবং বৌদ্ধদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ফেলোশিপ বুদ্ধিস্ট এর সদস্য পদ অর্জন করে। এসময় তিনি পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা গমন করেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা ও সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেন।
ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার এবং রাঙ্গামাটি আনন্দ বিহারের অধ্যক্ষ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো সারা বিশ্বে বসবাসরত বৌদ্ধদের তীর্থ সংঘ বিএলআইএ’র বাংলাদেশ অধ্যায়ের প্রধান হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অত্তদীপা ফাউন্ডেশন। ১৯৯৮ সালে অত্তদীপা ফাউন্ডেশন বিএলআইএ’র সদস্য পদ লাভ করে।