This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Wednesday, August 24, 2016

গাহি সাম্যের গান----


Anagarika Bhodisuriya

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান্‌ ।
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।–
‘পূজারী দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হ’ল!’
স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান’, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি ক’ সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে!
ভুখারী ফুকারি’ কয়,
‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’
মসজিদে কাল শির্‌নী আছিল,-অঢেল গোস্ত–র”টি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটি কুটি,
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন্‌
বলে, ‘ বাবা, আমি ভূখা-ফাকা আমি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা-‘ভ্যালা হ’ল দেখি লেঠা,
ভূখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ পড়িস বেটা?’
ভূখারী কহিল, ‘না বাবা!’ মোল্লা হাঁকিল-‘তা হলে শালা
সোজা পথ দেখ!’ গোস–র”টি নিয়া মসজিদে দিল তালা!
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে-
‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা ব’লে বন্ধ করনি প্রভু।
তব মস্‌জিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী।
মোল্লা-পুর”ত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী!’
কোথা চেঙ্গিস্‌, গজনী-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয়!
মানুষেরে ঘৃণা করি’
ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি’ মরি’
ও’ মুখ হইতে কেতাব গ্রন্থ’ নাও জোর ক’রে কেড়ে,
যাহারা আনিল গ্রন্থ’-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে,
পূজিছে গ্রন্থ’ ভন্ডের দল! মূর্খরা সব শোনো,
মানুষ এনেছে গ্রন্থ’;-গ্রন্থ’ আনেনি মানুষ কোনো।
আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম মোহাম্মাদ
কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর,-বিশ্বের সম্পদ,
আমাদেরি এঁরা পিতা-পিতামহ, এই আমাদের মাঝে
তাঁদেরি রক্ত কম-বেশী ক’রে প্রতি ধমনীতে রাজে!
আমরা তাঁদেরি সন্তান, জ্ঞাতি, তাঁদেরি মতন দেহ,
কে জানে কখন মোরাও অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ।
হেসো না বন্ধু! আমার আমি সে কত অতল অসীম,
আমিই কি জানি-কে জানে কে আছে
আমাতে মহামহিম।
হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি, তোমাতে মেহেদী ঈসা,
কে জানে কাহার অন- ও আদি, কে পায় কাহার দিশা?
কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই, কাহারে মারিছ লাথি?
হয়ত উহারই বুকে ভগবান্‌ জাগিছেন দিবা-রাতি!
অথবা হয়ত কিছুই নহে সে, মহান্‌ উ”চ নহে,
আছে ক্লেদাক্ত ক্ষত-বিক্ষত পড়িয়া দুঃখ-দহে,
তবু জগতের যত পবিত্র গ্রন্থ’ ভজনালয়
ঐ একখানি ক্ষুদ্র দেহের সম পবিত্র নয়!
হয়ত ইহারি ঔরসে ভাই ইহারই কুটীর-বাসে
জন্মিছে কেহ- জোড়া নাই যার জগতের ইতিহাসে!
যে বাণী আজিও শোনেনি জগৎ, যে মহাশক্তিধরে
আজিও বিশ্ব দেখনি,-হয়ত আসিছে সে এরই ঘরে!
ও কে? চন্ডাল? চম্‌কাও কেন? নহে ও ঘৃণ্য জীব!
ওই হ’তে পারে হরিশচন্দ্র, ওই শ্মশানের শিব।
আজ চন্ডাল, কাল হ’তে পারে মহাযোগী-সম্রাট,
তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে, করিবে নান্দী-পাঠ।
রাখাল বলিয়া কারে করো হেলা, ও-হেলা কাহারে বাজে!
হয়ত গোপনে ব্রজের গোপাল এসেছে রাখাল সাজে!
চাষা ব’লে কর ঘৃণা!
দে’খো চাষা-রূপে লুকায়ে জনক বলরাম এলো কি না!
যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারাও ধরিল হাল,
তারাই আনিল অমর বাণী-যা আছে র’বে চিরকাল।
দ্বারে গালি খেয়ে ফিরে যায় নিতি ভিখারী ও ভিখারিনী,
তারি মাঝে কবে এলো ভোলা-নাথ গিরিজায়া, তা কি চিনি!
তোমার ভোগের হ্রাস হয় পাছে ভিক্ষা-মুষ্টি দিলে,
দ্বারী দিয়ে তাই মার দিয়ে তুমি দেবতারে খেদাইলে।
সে মার রহিল জমা-
কে জানে তোমায় লাঞ্ছিতা দেবী করিয়াছে কিনা ক্ষমা!
বন্ধু, তোমার বুক-ভরা লোভ, দু’চোখে স্বার্থ-ঠুলি,
নতুবা দেখিতে, তোমারে সেবিতে দেবতা হ’য়েছে কুলি।
মানুষের বুকে যেটুকু দেবতা, বেদনা-মথিত সুধা,
তাই লুটে তুমি খাবে পশু? তুমি তা দিয়ে মিটাবে ক্ষুধা?
তোমার ক্ষুধার আহার তোমার মন্দোদরীই জানে
তোমার মৃত্যু-বাণ আছে তব প্রাসাদের কোন্‌খানে!
তোমারি কামনা-রাণী
যুগে যুগে পশু, ফেলেছে তোমায় মৃত্যু-বিবরে টানি’।
গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?- পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কন্‌ফুসিয়াস্‌? চার্বআখ চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো!
বন্ধু, যা-খুশি হও,
পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক-
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব প’ড়ে যাও, য্ত সখ-
কিন্তু, কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল?
দোকানে কেন এ দর কষাকষি? -পথে ফুটে তাজা ফুল!
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান,
সকল শাস্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ নিজ প্রাণ!
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার,
তোমার হৃষয় বিশ্ব-দেউল সকল দেবতার।
কেন খুঁজে ফের’ দেবতা ঠাকুর মৃত পুঁথি -কঙ্কালে?
হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!
বন্ধু, বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট।
এই হৃদ্য়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন,
বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম্‌ এ, মদিনা, কাবা-ভবন,
মস্‌জিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়,
এইখানে ব’সে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়।
এই রণ-ভূমে বাঁশীর কিশোর গাহিলেন মহা-গীতা,
এই মাঠে হ’ল মেষের রাখাল নবীরা খোদার মিতা।
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা-মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি
ত্যজিল রাজ্য মানবের মহা-বেদনার ডাক শুনি’।
এই কন্দরে আরব-দুলাল শুনিতেন আহবান,
এইখানে বসি’ গাহিলেন তিনি কোরানের সাম-গান!
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।

জাতি রক্ষার তাগিদে সমাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায়


লেখাটিকে আজও প্রাসঙ্গিক মনে হয়। যথার্থ গুরুর অধীনে যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া কেবল সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে ভিক্ষু হওয়া ভান্তেদেরকে যারা নিন্দা, ঠাট্টা করে দুঃশীল বলে তারা একটু সময় নিয়ে এই লেখাটি পড়তে পারেন। হয়ত মোহ কেটে গেলেও যেতে পারে।




কিছুদিন আগে মায়ের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীর পুণ্যদান অনুষ্ঠানে গ্রামে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল ৩১শে অক্টোবর কিন্তু ভিক্ষু সংখ্যা সংকুলান না হওয়াই ০১লা নভেম্বরে তা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সমাপনের পরেও বেশ কটা দিন ছিলাম বাড়িতে। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসা আমার সেই চিরচেনা সবচেয়ে অনগ্রসর গ্রামটি আবার নতুন করে জরিপ করলাম । কথা হল অনেকের সাথে। মায়ের পুণ্যানুষ্ঠানে আসা পাঁচ জন ভান্তের সাথেও কথা হয়েছিল অনেক্ষণ নানা বিষয় নিয়ে। তাঁরা বয়সে সবাই আমার থেকে বড়, তবে ভিক্ষু বর্ষায় মাত্র একজন ভান্তে সিনিয়র হন আমার থেকে(স্থবির)।
পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশোর্ধ এসব ভান্তেরা প্রায় সবাই গৃহী জীবন থেকে ভিক্ষু জীবনে এসেছেন জীবনের বাকি সময়টুকু যথাসম্ভব বুদ্ধ প্রদর্শিত পথে কাটিয়ে দেয়ার জন্য। তাঁরা সকলেই স্বল্পশিক্ষিত বা অতি অল্প অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন। সাংসারিক মোহময় জীবনের ক্লান্তির পর তা থেকে বিমুক্তির প্রত্যাশা তাঁদের চোখে মুখেই যেন প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। তাঁরা কেউই ধর্ম দেশনায় এত পারঙ্গম নয়। অক্ষর জ্ঞান না থাকা ও বই এবং দক্ষ গুরুর অভাবে ধর্মের মৌলিক বিষয়ের অনেক কিছুই তাঁরা জানেন না। শুধু সরল চিত্তের আগ্রহ ও বিশ্বাসে তাঁরা নিজেদের মত করে বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের শরণে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের দেখে অনেকের অনেক ধরনের চিন্তা মনে জাগ্রত হতে পারে। কেউ কেউ তাঁদেরকে ঠাট্টা, মস্করা, অবজ্ঞা এমনকি নিন্দাও করতে পারেন এই বলে যে- তাঁরা দুঃশীল, বকধার্মিক, মূর্খ, গোঁড়া, লোভী, বসে বসে খাওয়ার জন্য ভিক্ষু হয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু আমার মনে এসেছে অন্য ভাবনা। আর তা হচ্ছে- এই মাঝ বয়সী সরল, স্বল্প/অশিক্ষিত ভান্তেরা যদি প্রশিক্ষণ পেত যথাযথভাবে কোন ভিক্ষু ট্রেনিং সেন্টার থেকে কোন ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত গুরুর মাধ্যমে, তাহলে তাঁরা নিশ্চয় সেই শিক্ষা/জ্ঞান স্ব স্ব বিহারের আওতায় থাকা কচি-কাঁচা ছেলেমেয়েদের মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়নে তাঁদের মেধাকে বেশি করে কাজে লাগাতে পারতেন। হতে পারতেন এক এক জন সমাজ প্রগতির বিপ্লবী কর্মী।
আমাদের নব প্রজন্মের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা আজকাল আরজ আলী মাতুব্বর পড়ে আরজ আলী হতে চায়, প্রবীর ঘোষ পড়ে হতে চায় তথাকথিত সামাজিক কুসংস্কারের চ্যালেঞ্জকারী সোজা মেরুদণ্ডের মানুষ, কিংবা অভিজিৎ রায়, আসিফ মহিউদ্দিন পড়ে পরতে চায় মুক্তমনার রঙচঙা পোশাক। কেউবা মার্ক্স, লেনিন, মাও, হো এর দুয়েক পাতা পড়ে কম্যুনিজম ও নাস্তিক তত্ত্বের লাঙ্গল দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিপ্লবী কর্ষণ করতে করতে অস্তিত্ত্বের শেকড় গন্ধসুদ্ধ উপড়ে ফেলতে চায় আধুনিক গণমাধ্যম ফেইসবুক কিংবা ব্লগে।
জাতি রক্ষার তাগিদে সমাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় বর্তমান বিপ্লবের ময়দান শুধু মাত্র অনলাইন বা মিটিং মিছিলের রাজপথকে না ভেবে আমরা কি এসব নীরব সামাজিক বিপ্লবীদের আমাদের অর্জিত শিক্ষা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারি না? তাঁরা অল্প শিক্ষিত, অশিক্ষিত তো কি হয়েছে, আমি বা আমরা তো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষা পেয়েছি। সেই শিক্ষা নিশ্চয় তাঁদেরকে নিন্দা-ঠাট্টা করার জন্য অর্জন করিনি, করেছি তাঁদের স্বল্প জ্ঞানে বুদ্ধি-শক্তিতে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিরন্তন সংগ্রামকে বেগবান করতে। আমরা কেন ভুলতে বসেছি যে নালন্দা, তক্ষশীলার মত জগত খ্যাত বিদ্যাচর্চার কেন্দ্র গড়ে তুলেছিল এই ভিক্ষুরাই এককালে। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্চাপদও গোঁড়ামি মুক্ত জ্ঞানালোক সন্ধানী বৌদ্ধ ভিক্ষুরাই রচনা করেছিলেন। সেই মহান আদর্শের ধ্বজাধারী ভিক্ষু সংঘরাই তো আজ আমাদের মোনঘর, বনফুল, গিরিফুল, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশন, কাচালং শিশু সদনসহ নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়ে সমাজ প্রগতির সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করছেন। জুম্মদের পক্ষে দূত হয়ে জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছেন।
মাঠ পর্যায়ে থাকা এইসব ধর্মীয় সংগঠকদের মাঝে যদি আমাদের অর্জন করা আধুনিক শিক্ষা পৌঁছে দিতে পারি তখন তা তারা সাধারণের অন্তরে পৌঁছাবে। আধুনিক শিক্ষার উপাদানগুলো ঠিক এভাবেই প্রবাহিত করতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে, বিদ্যমান ধর্মীয় মিডিয়ার মাধ্যমে। তথাকথিত নাস্তিকতার ফ্যাশান, বিজ্ঞান মনস্কতার ফ্যাশান, প্রগতিশীল সেক্যুলার বিপ্লবী ব্লগার সেজে অনলাইন ও চায়ের কাপে ঝড় তুলে, তির্যক ভাষায় গণহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সমালোচনার নামে ঠাট্টা-নিন্দা করে শুধু জনবিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না। সত্যিকারের বিপ্লবী হতে হলে জনগণের অন্তরের ভাষা বুঝতে হবে, তা আয়ত্ব করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। জনচিন্তা ও জন ইচ্ছার বিপরীতে কখনোই কোন ধরনের বিপ্লব হয়নি, হবেও না। জনগণের এই ভাষা বুঝে মহান ভিক্ষুরা(কিছু ব্যাতিক্রম বাদে)। তাই তাঁরা সেই অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে নীরবে। তাঁদেরকে নিন্দা-ঠাট্টার বদলে সহযোগিতা করলে সমাজ জাতি উপকৃত হবে বৈকি।
ভবতু সব্ব মঙ্গলম
০৭/১১/২০১৪ইং

ভক্তির সংজ্ঞা কী


Upatisso Bhikkhu

”ভক্তির সংজ্ঞা কী??? ভক্তির সমুদয় কী?? ভক্তির নিরোধ এবং উপায় কী ???”
উত্তরঃ
অজ্ঞতা, মূর্খতা, ভয় ইত্যাদি থেকে কোন ব্যক্তি, মতবাদ বা বিষয়ের প্রতি যে প্রশ্নহীন একমূখী সংকীর্ণ অন্ধ অনুগত বিশ্বাসের সৃষ্টি হয় যা মানব মনের বিচারবোধশক্তিকে অচল করে দেয় সেটাই ভক্তি(Blind Conviction)।
ভক্তির সমুদয়(Cause) হচ্ছে মানব মনের ক্লেদসদৃশ অজ্ঞতা, মূর্খতা, আলস্য-তন্ত্রালুতা, সুশিক্ষাহীনতা, বঞ্চিত ও প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থান ইত্যাদি।
ভক্তিবাদের অবশ্যই নিরোধ আছে আর তা হচ্ছে সুশিক্ষার প্রচার ও প্রসার, মুক্তচিন্তার বিকাশ, বৈষয়িক ও আধ্যত্মিক দরিদ্রতা হ্রাস করে চিন্তন-মনন অনুশীলন ও বিকাশের অনুকূল বা প্রতিরূপ পরিবেশ সৃষ্টিসহ আর্যঅষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুশীলন।
.........................
উপতিষ্য ভিক্ষু
২৪-০৮-২০১৬

এত মৈত্রী রাখিব কোথায়



Upatisso Bhikkhu




এত মৈত্রী রাখিব কোথায়, পায় না কূল ভাবিয়া,...
দুর্নাম করিয়া বর্জন করিছে তাও নাকি মৈত্রী দিয়া!
এই মৈত্রী কোথায় ছিল নিরিহ ভিক্ষুর তরে,..
যখন কাক, শকুন বলিয়া গালি দিয়াছিল অরহত হওয়ার পরে।
বন্যবাদের একেমন স্বভাব বারে বারে দেখি হায়,...
বিশুদ্ধ ধর্মের নাম করিয়া সবকিছুর বৈধতা পায়।
বৌদ্ধ ধর্মের সোল এজেন্ট তারা শীলবানের নাম নেয়,...
তাদেরই কৃতকর্মের কথা তুলিলে হিংসুক আখ্যা দেয়।
অন্যভিক্ষুরে কাক বলিল, শকুন বলিল, বলিল নিকৃষ্ট,...
বন্য বলিতেই আঁতে লাগিল, তারা যে সভ্য উৎকৃষ্ট!!


JD Bhikkhu

ফরাসি বিপ্লবের আগে সমাজে ভয়ংকর ধর্ম ব্যবহার হয়েছিল। তিন শ্রেণি ছিল সামাজিকভাবে যথাক্রমে ১। যাজক শ্রেনি ২। অভিজাত শ্রেণি এবং ৩। তৃতীয় শ্রেনি বা জনগণ। রাজাদেরকে মনে করা হত স্বয়ং ইশ্বরের পুত্র। বিপ্লবের পূর্বে ছিল চতুর্দশ লুই আর বিপ্লবের সময় ছিল ষোড়শ লুই। লুই মানে রাজা। তখনকার ইউরোপের ব্যাপক রাজতন্ত্র ও রাজ্যশাসন ছিল। তবে পোল্যান্ড ও সুইডেন ছিল ভিন্ন অপরাপর দেশ ছিল বংশানুক্রমিক। পোল্যান্ড রাজ্যপদ ছিল নির্বাচনমুলক। রাজারা নিজের প্রয়োজনে ধর্মকে ব্যবহার করত। ধর্মবোধ দেখালে তারা জনগনের কাছে আদর্শ রাজা পরিচয় পেত। রাজারা ছিল রাজনৈতিকভাবে ছিল চরম আগ্রাসীপরায়ন। পরে ১৮শতাব্দিতে জ্ঞানচর্চার কারণে মানুষের বোধবিচার শক্তি জাগ্রত হয়। অতি প্রাকৃত বিষয়কে তারা বিশ্বাস করতে পারেনি। এর পেছনে যে কয়েকজন জ্ঞানীমানুষের নাম না বললে নয় তারা হলেন- মন্টেস্কু, ভলতেয়ার, রুশো, লক প্রভৃতি। তাদের যুক্তি চিন্তাধারা উন্মেষ ঘটে গোটা ফ্রান্সকে বিপ্লবের পেছনে এই জ্ঞান্দীপ্তি ব্যক্তিদের কারন রয়েছে। বিপ্লব ও বিপ্লবের পর ইউরোপ এত উন্নত পর্যায়ে আসার পেছনে তাদের অবদান রয়েছে। কোন ধর্ম রাজনীতির বাইরে যেতে পারেনি আর যেতে পারবেই বা কেন। এরিস্টল মনে করেন মানুষ রাষ্ট নির্ভর প্রাণি। কাজে বুদ্ধকেও রাষ্ট্রে নিময়ের উর্ধ্বে উঠতে পারেনি। সেই অনেক লেখক আছেন বুদ্ধকে সমালোচনা করেন বুদ্ধ নাকি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। তা নয় বলেছেন রাজা তোবা চোর তোবা'। এটা মনে রাখতে হবে বুদ্ধ রানৈতিক চরিত্রগুলো নিয়ে কথা বলেছন কিন্তু রাষ্ট্রে নিয়মের উর্ধ্বে উঠেনি। তখনকার রাজনৈতিকভাবে এক বিরাট সিদ্ধান্ত নিলেন সেটা হচ্ছে নারীদেরকে প্রব্রজ্যাকরন। সকল মানুষকে স্বীয়কর্মকে দায় করে সকল স্বত্ত্বদের সাম্য প্রতিষ্ঠা। এই কথাগুলো বুদ্ধের প্রতিটি কথা বলা আছে। বর্তমান যে নারীরা প্রব্রজ্যা লাভ করতে পারেনা এটা একটা দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। মুলত রাজনৈতিক কারণে নারী প্রব্রজ্য আর নিতে পারেনি। আর পার্বত্য চট্টগ্রামে বনভান্তে উত্থান একটা রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। শুধুমাত্র তাঁর গলার আওয়াজ শুনে গালি দিলে হবেনা। তিনি একজন সহজ সরল মানুষ। রাজনৈতিক সামাজিক জ্ঞানের অভাবের হেতু তিনি কখন যে ব্যবহার হয়েছে বেচারা তিনি জানেননি। তাই আমাদের আলোচনা করলেও বনভান্তের আনুগত্যের উর্ধ্বের উঠে, ভক্তের উর্ধ্বে উঠে আমাদের আলোচনার দাবি রাখে। যাতে সঠিক ইতিহাস ফুটে উঠে।

Tuesday, August 23, 2016

মিথ্যা নয় বাস্তব,,,, একটু কষ্ট করে পড়ুন,,,,,,

মিথ্যা নয় বাস্তব,,,, একটু কষ্ট করে পড়ুন,,,,,,



আজকে সকাল সকাল শ্রদ্ধেয় সাধনা নন্দ মহাথের (বনভান্তের) একটি ধর্মীয় দেশনা শুনতেছিলাম, শুনতে শুনতে হঠাৎ ভান্তের দেশনা এক গর্জন শুরু হয়,,, তা হচ্ছে..............
/ পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ মৃত্যু মৃত্যুদন্ড
/ ছাত্র পরিষদ
/ শান্তি বাহিনী মুত্যু মৃত্যু বলে চিল্লাচিল্লি করছে, এমন চিল্লাচ্চে যা ভাষায় বর্ণনা করা যাবেনা, সেই তিন সংগঠন থাকলে নাকি চাকমাদের সবার মৃত্যু হবে ধংস হবে, আর তিনি যদি সেরাবাহিনীদেরকে বললে অনুমতি দিলে সবাইকে নাকি শেষ করবে, আর তিনি বার বার শান্তিবাহিনীদের উদ্দেশ্যে সেটলার বাঙাল না মারার জন্য হুমকি দিচ্ছে,
তখন আমি বনভান্তের এমন মুখের বাক্য শুনে হতভঙ্গ হয়ে গেলাম, ভান্তের সেই গর্জন হুংকার শুনলে সবার ভয় লাগারও কথা, আমি মনে মনে সেই অতীতের এক জনের সাক্ষাত হওয়ার ঘটনায় ফিরে গেলাম বনভান্তে সেই তিন সংগঠন দলের প্রতি কেন এত ক্ষিপ্ত ছিল, কেন মৃত্য সহ মৃত্যুদন্ড কামনা করেছিল

এক সময় আমি ঢাকায় এক কাজের জন্য যায়, ঢাকায় গিয়ে একটি ভদ্র লোক বাঙ্গালী আমাকে ডেকে বললো হ্যালো.. আপনি কি পাহাড়ী? মানে সেই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে? আমি বললাম হ্যা আমি পাহাড়ী সেই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় একটু কাজের জন্য এসেছি, তিনি আমাকে বললো আপনার সাথে কি কিছু কথা বলা যাবে? আমি বললাম হ্যা নিশ্চয়,,, 
তারপর কথা শুরু করলো তিনি আমাকে বললো আপনাদের পাহাড়ে যাকে বনভান্তে বলে চিনে পাহাড়ে তাকে অনেক মহাপুরুষ বলে জানে, আমি বললাম হ্যা অবশ্যই চিনি, তারপর বললো আপনি কি লোগাং গনহত্যার কথা শুনেছেন? আমি বললাম হ্যা শুনেছি, তিনি বললো সেই গনহত্যা করা সেরাবাহিনীর মধ্যে আমি একজন ছিলাম বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত, এমন কথা শুনে আমি ভয় পেয়ে গেলাম, তাহলে আপনারা সেই গনহত্যা করেছেন? তিনি বললো সেই গনহত্যা শুধু আমরা করিনি সেই গনহত্যার পরিকল্পনাকারী মূল একজন ছিল তিনি হচ্ছেন আপনাদের সেই মহাপুরুষ বলে খ্যাত বনভান্তে নামে ভিক্ষুটি, তিনিই পরিকল্পনা করে ফিরে আসার পরে গনহত্যাটি পরিচালনা করা হয়েছে, তিনি আরো বললো ভাই একজন ভান্তে হয়ে এমন জাতিকে বিপর্যয়ে নিয়ে যেতে পারে ধংস হত্যায় নিমোজ্জিত হতে পারে যা আমি জীবনেও কল্পনা করিনি, তার এমন বক্তব্য আমি কখনো বিশ্বাস করতে পারিনি যা বিশ্বাস হবারও কথা নয়, কারন আমরা জুম্মরা সারাজীবন যাকে মহাপুরুষ ভেবে শ্রদ্ধা সন্মান পূজাঁ দিয়ে এসেছি তিনি এমন কাজ কীভাবে করবেন?সব মানুষের মনে এমন প্রশ্ন হতে পারে, তিনি আরো বিভিন্ন ভাবে সেই লোগাং গনহত্যার কথা বর্ণনা করেন, আমি তবুও তার সামনে বিশ্বাস করাতো দূরের কথা দারের কাছেও যায়নি, আমার এই কথাগুলো হইতো কারোর কাছে গ্রহনযোগ্যও হতে পারেনা বিশ্বাসও হতে পারেনা, এই বক্তব্যটি বানোয়াত নয় সত্য বলেছি কখনো মিথ্যা নয়,,,
তখন থেকে বনভান্তের সম্পর্কে এমন একটি তথ্য পেয়ে আমি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে থাকি, আর সেভাবে জীবন অতিবাহিত চলার মুহুর্তে বনভান্তের উপরের উপস্থাপন করা দেশনা বক্তব্যটি নিজের কানে শুনতে পেলাম, বনভান্তের এমন বক্তব্য আমাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে বারবার নিজেকে মানতে কষ্ট হচ্ছে, তাহলে শেষপ্রান্তে ধরে নিলাম বনভান্তের এমন বক্তব্য সেরাবাহিনীদের সাথে জাহির করা সেরাবাহিনীদের হেলিকপ্তারে ঘুড়ে বেড়ানো গাড়িতে ভ্রমণ সেনাদের বিভিন্ন সাহায্য সহযোগীতা আসলে এমন আচরন দেখে আজ থেকে আমার সন্দেহ দূর হয়ে গেল, বনভান্তে নিজের ব্যক্তি আত্মহঙ্কারে নিমোজ্জিত হয়ে জুম্ম জাতির বিপর্যয়ের মুহুর্তে কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্টিত করেছেন,
বনভান্তে তার বক্তব্য সব সময় সেরাবাহিনীদের প্রসংসা করেছেন, সেটলার বাঙ্গালিদের না মারার জন্য হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ, ছাত্র পরিষদ, শান্তি বাহিনীদের তুচ্চতাচ্চিল্যা করে সব চাকমাদের মুরিবা মুরিবা বলে মৃত্যু কামনা করেছেন, তাহলে বনভান্তের মূল পরিকল্পনা কার্যক্রম কি ছিল বুঝার আর বাকি থাকলোনা,
সুধী বৃন্ধ,

আমি একটি শব্দও বাড়িয়ে বলিনি, কারোর বিশ্বাস না হলে হতে পারে ঠিক আমারও একদিন সন্দেহ ছিল, তবুও নিজের কানে না শুনলে বিশ্বাস করা দুষ্কর,
আমি সত্য কথাটি উপাস্থাপন করার মধ্যে কারোর আমাকে ভাল না লাগলে আমার কিছু করার নেই, গালিগালিজ করা থেকে বিরত থাকুন, বিশ্বাস না হলে চুপ থাকুন, আমার কনো দোষ নেই,,,,,

আমার নরকের ভয় নেই,
আর স্বর্গ নির্বানেরও লোভ নেই...........