উপতিষ্য ভান্তের
Facebook post
ভক্তির জন্ম অন্ধবিশ্বাস থেকে আর শ্রদ্ধার জন্ম স্বজ্ঞাত সত্য বা উপলব্ধি থেকে। তথাগত বুদ্ধ শ্রদ্ধাকে প্রশংসা করেছেন ভক্তিকে নয়। ভক্তি অনুভূতি নেশার মত। মাতাল বানায় ভক্তদের। আমার ধর্ম ভাই দীনেশ বাবু এটাকে বোঝাতে একবার চমৎকার উদাহরণ দিয়েছিলেন অ্যালকোহল পারদযুক্ত থার্মোমিটারের সাথে তুলনা করে। এই ভক্তি অনুভূতি খুব সহজে যেমন উপরে উঠে যায়; যেমন- কোন সেলিব্রিটির বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণের খবর শুনে, বা বারাক ওবামা কিংবা পুতিনের হাতে বুদ্ধ ছবি দেখে অথবা চাঁদে বা মঙ্গল গ্রহে বুদ্ধের অবয়ব দেখে তেমনি আবার সামান্যতে আঘাত পেয়ে পরে যায়, ভেঙে যায়; যেমন ভান্তেরা ফেইবুকে ধর্মের নামে ভাওতাবাজ ও অসংগতির মুক্ত আলোচনা করছে দেখলে। ধর্ম গেল গেল রব তোলে। তখন ভক্তি অনুভূতির পারদের হঠাৎ এত পতন হয় যে অশালীন, অশ্লীল কথাবার্তা, গালাগাল শুরু করে এমনকি কোন কোন ব্যক্তি ভান্তেদের রং কাপড় কেড়ে নেয়ারও হুমকি দেয়। ভক্তির বৈশিষ্ট্য এমনই। সহজে উঠে আর সহজে পরে যায়। তথাকথিত সত্যবুদ্ধর নাম শুনলে বা কোথাকার কোন ঋদ্ধিশক্তি বলে প্রচারিত কোন ছবি দেখে ভক্তিতে গদগদ হয়ে সাধু সাধু সাধু বলে ওঠে। এতে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে খড়গ হস্ত হয়ে ওঠে তার উপর। এই ভক্তির জোয়ারেই তো টিকে থেকে লুন্ঠনের সুযোগ পায় তথাকথিত সাধক নামধারী ভন্ডরা। হুজগে পিছিয়ে পড়া শিক্ষাহীন সমাজে এই ভক্তিবাদ মাশরুমের মত আপনিই গজে উঠে যা শোষণের দুষ্টচক্রে আবর্তিত রাখে দরিদ্র জনসাধারণকে। অন্যদিকে শিক্ষা ও মুক্তচিন্তা চর্চাকারী জ্ঞানভিত্তিক অগ্রসর সমাজে আধ্যত্মিক অপরিহার্য বন্ধন হিসেবে শ্রদ্ধার জন্ম ও বিকাশ হয় যা সহজে যেমন গড়ে ওঠে না তেমনি সহজে পরিহানিও হয় না। পাথরের চেয়েও শক্ত ও অনড় প্রকৃত শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধা সম্পন্ন এই সমাজই বুদ্ধ মতে জ্যোতি জ্যোতি পরায়না সমাজ যা প্রত্যাশিত নয় কেবল মানবিক সমাজ হিসেবে অবশ্য প্রয়োজন।
শেষে শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞানন্দ মহাথের ভান্তের কথাটাই বলি- "যে জাতির ভক্তির বন্যায় যুক্তির মানদন্ড ভেসে যায়, সে জাতির মুক্তির পথ হয় সুদূর পরাহত"।
সুতরাং ভক্ত না হয়ে শ্রদ্ধাবান হও।






0 comments:
Post a Comment